কেঁচোকে বলা হয় প্রকৃতির লাঙ্গল। কৃষিতেআধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে মাটির মান ভাল রেখে সল্প সময়ে অধিক ফসল ফলাতে বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সম্প্রতি যে সকলপদক্ষেপ গ্রহন করেছেন কেঁচো সার তৈরি হল তার মধ্যে অন্যতম।
## কেঁচো সার কি?
বিভিন্ন পচনশীল গোবর,লতাপাতা ও জৈব উপাদন খেয়ে কেঁচোর নির্গত লাভা হতে সৃষ্ট সারকে কেঁচো সার বলে।মাটিতে সতেরো ধরনের জৈব উপাদান থাকে তার মধ্যে পনেরো থেকে ষোলো ধরনের উপাদন এই সারে বিদ্যমান থাকে।
প্রস্তুত প্রণালি :- কেঁচোসার তৈরি করতে যে উপকরনগুলি দরকার তারমধ্যে গোবর এবং কেঁচো উল্লেখযোগ্য। এছাড়া গোবরের সাথে কলাগাছের কোষা,তরিতরকারির উচ্ছিষ্ট অংশবিশেষ ব্যবহার করা যায়। প্রথমে গোবরকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে দশ থেকে পনেরো দিন রাখা হয়। গোবরে যেন গ্যাস না থাকে কয়েক দিন পরপর নেড়ে ছেড়ে দেয়া হয় তবে গোবরের আদ্রতা যেন ৫০-৬০ ভাগ পযর্ন্ত থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হয়। পরে গোবরকে একটু জুরজুরে অবস্থায় সেনিটারি রিংয়ে ঢালা হয়। তবে যেখানে রিং বসানো তার মেঝে পাকা নিতে হয় যাতে কোনো কেঁচো মাটিতে প্রবেশ না করে। আবার যেখানে রিং বসানো হয় তার চারদিকে ছোট্ট পানির ঢ্রেইন দিতে হয় যাতে কোনো পিপড়ে ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। এভাবে প্রতিটি রিং এ পঁয়ত্রিশ কেজি করে গোবর দিয়ে দুইশ থেকে পাঁচশত গ্রাম কেঁচো ছাড়া হয়। টানা বিশ পঁচিশ দিন পর রিংয়ের উপরিভাগ থেকে সার উৎপাদন শুরু হয়। এবং এক থেকে দেড়মাসে পুরো রিং সারে পরিনত হয়। এভাবেই ষোলটা রিং বসিয়ে ছোট্ট একটি প্রকল্প চালু করতে মিনিমাম বিশ থেকে পঁচিশ হাজার টাকা খরচ হতে পারে।
একটি আধুনিক সম্ভাবনাময় ও কৃষিনির্ভরশীল দেশগড়তে ভার্মিকম্পোষ্ট কিংবা কেঁচো সারের কোনো বিকল্প নেই।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন